দোয়া কবুলের গল্প.....

দোয়া কবুলের জন্য করা আমল.....


একটা দু'আ অনেক দিন ধরে কবুল হচ্ছিল না। দেশের অবস্থা, পারিবারিক কিছু সমস্যা সব মিলিয়ে সব কিছুই যেন ছিল আমার সেই মনের ইচ্ছার অন্তরায়। দিন যাচ্ছে আর যাচ্ছে কিন্তু কোন কিছুই যেন নিজের মন মতো হয়ে

উঠছিল না। 


তারপর সিদ্ধান্ত নিলাম সব কিছু বাদ দিয়ে আল্লাহ তায়ালার পিছিনেই সময় ব্যয় করবো। কারণ আল্লাহ চাইলে দুনিয়ার সব কিছু আমার বিপক্ষে গেলেও আমি তা পেয়ে যাব। আমি জানি আমার আল্লাহ সব পারেন।

তারপরের স্টেপ কিভাবে আল্লাহ কে নিজের দু'আ কবুলের জন্য রাজি করাবো বা কিভাবে দ্রুত দু'আ কবুলের জন্য আমল করবো। এরপরই শুরু হলো রমাদান আলহামদুলিল্লাহ।


এটা আমার জীবনের প্রথম এমন এক রমাদান যার প্রতিটি রাত আমি নির্ঘুম কাটিয়েছি। যার প্রতিটি রাত ছিল একমাত্র আমার আল্লাহ তায়ালার জন্য বরাদ্দ 💜

রমাদানের রাতের শেষ ভাগকেই বেছে নিলাম আমার আর আল্লাহ তায়ালার মধ্যে কথোপকথনের জন্য ❤


নিজের নির্ধারিত ইবাদত শেষে আমি ২০ মিনিট মুনাজাতের জন্য নির্ধারণ করলাম। রাতের সেই গভীর মুহুর্ত।

যখন সবাই ঘুম কিন্তু আমি জাগ্রত ❤


প্রতি মুনাজাতের শুরুতেই আমি তাওবাহ করতাম। কারণ তাওবাহ করলে একটা মুমিন বান্দার গুনাহ মাফ হয়ে যায়। আর যদি আল্লাহ ওই তাওবাহর উসিলায় জীবনের সব গুনাহ মাফ করে দেয় তাহলে তো উক্ত মুমিন নিষ্পাপ।

তাওবাহ শেষে দু'হাত তুলে প্রথমে ইসমে আজম পড়তাম। তারপর উক্ত ইসমে আজমের অর্থ বলতাম। কারণ ইসমে আজমের অর্থতে আল্লাহ তায়ালার প্রশংসা দিয়ে পরিপুর্ণ।

তারপর সুরা বাকারার শেষ দুই আয়াত পড়তাম। এরপর আমি যতটা বিনয় আর অধিকার নিয়ে দু'আ করতে পারি তাই করতাম।

কান্না অনবরত চলে আসে আমার। আমি দু'আর শেষে একটা কথা সবসময় বলি তা হচ্ছে, "ইয়া আল্লাহ! আপনি ছাড়া আমাকে কিছু দেয়ার কেউ নেই। আপনার রহমত থেকে আমাকে একটু রহমত দিন।"


ইয়া আল্লাহ বলে বার বার আমি আমার আল্লাহ কে ডাকতাম। নিজের দু'আ শেষ হলে আমি দুরুদ পড়তাম, তারপর দু'আ শেষ করে কিছুক্ষন ইস্তেগফার করতাম।


আমি এই ইসমে আযমটা পড়েছি-


اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ بِأَنَّ لَكَ الْحاَمْدُ لَا إِلَهَ إِلاَّ أَنْتَ وَحْدَكَ لاَ شَرِيكَ لَكَ، الْمَنَّانُ، يَا بَدِيعَ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ يَا ذَا الْجَلاَلِ وَالْإِكرَامِ، يَا حَيُّ يَا قَيُّومُ

(আল্ল-হুম্মা ইন্নী আস্-আলুকা বি-আন্না লাকাল হা’মদু লা~ইলাহা ইল্লা আংতা ওয়াহ্’দাকা লা- শারীকা লাকাল মান্নান। ইয়া বাদীআ’স্ সামা-ওয়া-তি ওয়াল-আরদি ইয়া যাল জালালি ওয়াল ইকর-ম। ইয়া হা’ইয়্যু ইয়া কইয়্যুম)


অর্থঃ হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে প্রার্থনা করছি, কারণ সকল প্রশংসা আপনার। কেবলমাত্র আপনি ছাড়া আর কোনো সত্য ইলাহ নেই, আপনার কোনো শরীক নেই, আপনি সীমাহীন অনুগ্রহকারী। হে আসমানসমূহ ও যমীনের অভিনব স্রষ্টা! হে মহিমাময় ও মহানুভব! হে চিরঞ্জীব, হে চিরস্থায়ী-সর্বসত্ত্বার ধারক!


রমাদানে করা সেই দু'আ ঈদের পরের দিন কবুল হয়ে যায় আলহামদুলিল্লাহ। আমি অবাক হয়েছি এই ভেবে আমি আল্লাহ কে যেভাবে যে সময় বলেছি উনি সেভাবেই আমার দু'আ কবুল করেছেন।


দু'আ কবুলের জন্য কখনো তাড়াহুড়া করতে নেই। দু'আ কবুল হবেই এই ভেবেই দু'আ করে যেতে হবে। কবুল না হলে নিরাশ হওয়া যাবে না। আল্লাহ তায়ালার কাছে চাইতে হবে, অনেক চাইতে হবে, তিনি দিবেন ইনশাআল্লাহ। 


রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে জিজ্ঞাসা করা হলো, "কোন দু'আ সর্বাধিক শোনা (কবুল করা) হয়?"

তিনি বললেন : "রাত্রির শেষভাগে এবং ফরজ নামাজসমূহের শেষাংশে।" (তিরমিযী ৩৪৯৯ : ইমাম তিরমিযী ও শায়খ আলবানীর মতে হাদিসটি হাসান সহীহ)। 


রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আরো বলেন, "প্রতি রাতে যখন রাতের এক-তৃতীয়াংশ অবশিষ্ট থাকে তখন আমাদের প্রতিপালক পৃথিবীর নিকটবর্তী আকাশে অবতরণ করেন। তখন তিনি বলেন, কে আছে আমার কাছে দু'আ করবে, আমি তা কবুল করবো। কে আমার কাছে তার যা দরকার প্রার্থনা করবে, আমি তাকে তা দিয়ে দিবো। কে আমার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করবে, আমি ক্ষমা করে দিবো।" (বুখারি : ১১৪৫, মুসলিম)।


Leave a Comment