দোয়া কবুলের সত্যিকারের গল্প।❤️
যাদের বছরের পর বছর দোয়া কবুল হচ্ছেনা। তাদের জন্য একটা সমাধান নিয়ে আসলাম।আমার একজন ছেলে কাজিন ছিলেন আমার থেকে সে প্রায় ২০ বছরের বড় হবে। তার থেকে একবার আমি দোয়া কবুলের গল্প শুনেছিলাম। আমি নিজেই অবাক হয়েছি তার দোয়া কবুলের গল্পটি শুনে। আমি সেটা তোমাদের সাথে শেয়ার করছি। ❤️তার মুখের ভাষায় গল্পটি আরো অনেক মধুর ছিল😊
আমার কাজিন সে কুরিয়াতে থাকতেন। সে অনেক মড্রান ছিলেন। তার চলাফেরা খুবই আলাদা ছিল। তিনি ভদ্র ছিলেন তবে নামাজ রোজা কোন কিছুই ঠিক মত পরতেন না। ইসলাম নিয়ে জ্ঞান কম ছিল।তারপর একদিন হঠাৎ তিনি যেখানে কাজ করতেন সেখানে তাকে বিনা কারনেই তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়। তারপর তিনি নতুন কাজ পাচ্ছিলেন না। অনেক দিন বসে ছিলেন। তারপর একদিন তার এক আলেম বন্ধু তাকে জোর করে তাবলিকে নিয়ে যায়। ব্যাস, সেখানে যাওয়ার পরই সে একদম পুরাই বদলে যায়। সে অনেক ধামিক ও ইসলামিক মাইন্ডের হয়ে যায়। সে নিয়মিত নামাজ পরে। আর সে সেখানে থেকেই ডিসাইড করে সে কুরিয়াতে আর থাকবে না। সে দেশে এসে পড়বে একে বারে। কারণ তার পরিবার খুবই মড্রান তাদের দিনের পথে আনতে হবে । তার মা, বোন, বউ তারা বেপরদায় চলে তাই তাদের পরদা করাবে। দেশে এসে সে সবাইকেই ধিরে ধিরে বদলে দেয়। যদিও তার বোন পদা মন থেকে করেনি। শুধু ভাইয়ের ভয়ে করত কিন্তু তারপরও পরদা করত। তো ভাইয়া দেশে আসার পর যেহেতু বেশি শিখিত না তাই তার চাকরি করা বা অন্য কিছু করার রাস্তা ছিলনা। আর সে এসব করেতেও চায়নি। সে চাইত আল্লাহর রাস্তায় দিন পার করবে। তো সে ছোট খাট ব্যাবসা করত যেন অতিরিক্ত আয় দরকার নেই কোন রকম চলতে পারলেই হল আর তিনি যেন তাবলিকে যেতে পারে সেটার জন্য যেন যথেষ্ট সময় পায় সেজন্য ছোট খাট ব্যাবসা করতেন।
আসল ঘটনা: একবার তাদের তাবলিক থেকে সবাইকে ইন্দোনেশিয়াতে সফরে যাওয়ার প্রস্তাব আসে। তখন তার যেহেতু ছোট খাট ব্যাবসা আর সেখানে সামথ একবারেই নেই তাই তিনি যেতে চাইলেও না যাওয়ার কথা বলে দেন। তখন সেই ভাইয়ার তাবলিকের একজন বড় হুজুর তাকে জিজ্ঞেস করেন" সে কেন যেতে চায়না?"।কারণ তাকে ছাড়া সেখানে যাওটা কারোই ইচ্ছে নেই।আর সে এখন ইসলামের সবকিছুতেই খুবই পারদশী আর সে যেহেতু একজন বলিষ্টবান পুরুষ তাই সে সব কাজেই পারদর্শী ছিল। তাকে নিয়ে গেলে সবারই সুবিধা তার মাথার বুদ্ধিও আলাদা। তখন ভাইয়া তার সমস্যা বললেন যে তার সেখানে যাওয়ার সামথ নেই। তখন ভাইয়াকে সেই হুজুর বললেন তুমি সেখানে যাওয়ার জন্য নিয়ত করে ১৫০০ রাকাত নফল নামাজ পড়। প্রতিদিন ২ রাকাত থেকে যত রাকাত পার পড়বে। কিন্তু প্রতিদিন পড়৷ একদিনও মিস করবে না। সফরে যেতে যেহেতুআরও ৬ মাস বাকি তুমি এই সময়টাকে এই আমলটা করে কাজে লাগিয়ে দেও। ইন শাহ আল্লাহ তোমাকে অলৌকিকভাবে সাহায্য করবে। ভাইয়া ঠিজ হুজুরের কথা মত কাজ করছিল। প্রতিদিন তার সামথ মত নফল নামাজ আদায় করছিল আল্লাহর কাছে সেই ইন্দোনেশিয়ার সফরে যাওরার জন্য দোয়া করছিল। তার ১৫০০ রাকাত নফলের দরকার হয়নি তার যখন নফল ৫০০-৬০০ হয়ে গেছে তখনি আল্লাহ এক অলৌকিক সাহায্যে মাধ্যমে তার ইইন্দোনেশিয়া যাওয়ার সব কাগজপত্র ঠিক হয়ে যায়। আর তাদের মাঝে এক প্রভাবশালি ভাই তার সব খরচ নিজের ইচ্ছায় বহন করে। তাকে কিছু বলাও হয়নি সে নিজেই তার দায়িত্ব নিয়ে দেয় বলা ছাড়াই৷ পরে সবার সাথে ভাইয়া সেই ইইন্দোনেশিয়ার সফরে যান আর তার সেখানে এক পয়শাও খরচ হয়নি😊 আল্লাহ কত মহান। নিয়ত সৎ রেখে যখনই কিছু চান না কেন আল্লাহ আপনাকে ফিরাবেন না যতই অসম্ভব হোকনা কেন।
আমি দোয়া কবুলের এই গল্পটা এজন্যই শেয়ার করেছি যেন অনেক আপুরা উপকার পান। যাদের দীঘদিন দোয়া কবুল হচ্ছেনা, অনেক আমল করেছেন ফল পানি, অনেকের কিছু চাওয়া যা অসম্ভব মনে হচ্ছে কিন্তু চান যেন আল্লাহ আপনার প্রিয় দোয়াটা কবুল করুক, অনেক আপুর বাচ্চা হচ্ছেনা বলে অনেক কষ্টে আছেন, আবার অনেকের বিয়ে হচ্ছেনা। তারা সবাই নিয়ত করে এই আমালটা করুন।এর পাশাপাশি সালাতুল হাজত ও তাহাজ্জুত পড়ুন। ইন শাহ আল্লাহ আপনাদেরও আল্লাহ গায়েবি ভাবে বিপদ দূর করে দিবে। আল্লাহর কাছে কিছুই অসম্ভব না। আমাদের শুধু চাইতে হবে। তিনি সকল অসম্ভকে সম্ভব করতে জানেন। খাটি ইমানের সাথে আমলটি করুন। ইন শাহ আল্লাহ আল্লাহ অলৌকিকভাবে সাহায্য করবেন। ❤️

Leave a Comment