দু'আ কবুলের গল্প✨
সংসার জীবনের কিছু সময়ের কথা চিন্তা করলে এখনো চোখে পানি চলে আসে।
প্রথমদিকে যখন এমন সমস্যার সম্মুখীন হই, অর্ধাঙ্গ শুধু বলেছিলেন আল্লাহর কাছে দোআ করো। এর বাইরে কেউ কিছু করতে পারবে না।
গতবছর রমজানের পুরোটা মাস সবসময়ই সূরা ওয়াকিয়াহ্ তিলাওয়াত করতাম এবং শুনতাম। সাথে থাকতো বুকভরা আশা নিয়ে দোআ, একটা রিযিকের ব্যবস্থা যেনো করে দেন তিনি।
আলহামদুলিল্লাহ ঈদ পার হবার পরপরই একই সাথে তিনটি সুযোগ পেয়ে গেলেন। এরপর অনেকটা সময় পার হবার পর নিজেরা ঢাকায় স্যাটেল হই। কিছুদিন যাওয়ার পর আল্লাহ তাআ'লা আবার পরীক্ষা নিতে শুরু করলেন।
সেই পরিস্থিতিগুলো যদি কেউ শুনতো তবে বুঝতে পারতো সম্মানী মানুষেরা কারো কাছে চাইতে পারে না৷
একবার পকেটে হাত দিয়ে গুণে দেখলাম আসা যাওয়ার যে ভাড়া দরকার সেটা থেকে দশটাকা কম আছে। সকালে বেরিয়ে গেলেন, ডিউটি শেষে রাতে ফিরলেন আমার জন্য দুইটা ম্যাঙ্গোবার কিনে। খুবই অবাক হয়েছিলাম এটা শুনে যে রাস্তায় হেঁটে এসে টাকা বাঁচিয়ে এটা কিনেছে। মাত্র ১৫ টাকা, কিন্তু ঘাম ঝড়ানো।
আব্বু আমাকে এমনভাবে বড় করেছে যে নিজেকে রাজকন্যার মতো লাগতো, কোনো অভাব নেই, দুঃখ নেই, কষ্ট নেই।
কিন্তু সেই দিনের কথা মনে পড়ে যেদিন একটা খাবারের ছবি আমার বান্ধবী পাঠানোর পর খুব খেতে ইচ্ছে হয়েছিল, অথচ আমার সেদিন সামর্থ্য ছিল না।
আমরা মানিয়ে চলছিলাম দুজন একসাথে। সবসময়ই শোকর আদায় করতাম, যেমন আছি যা আছে আলহামদুলিল্লাহ্।
বাসা চেন্জ করতে হবে, ভাড়াও বাড়বে। দিশেহারা লাগছিল। কি করবো, কোথায় যাবো, কাকে বলবো?
ঐ যে একজন আছে,
রব্বুল আ'লামিন যিনি রিযিকদাতা।
সেদিন রাতে চেয়েছিলাম, এমনভাবে চেয়েছিলাম যেন কোনোভাবেই আর আমাকে তিনি ফিরিয়ে দিতে না পারেন।
"আমার সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দিন, জানা অজানা সমস্ত পাপকে মাফ করে দিন। যে গুনাহের জন্য এই রিযিকের সংকট সেটা আপনি যেমন করেই হোক দূর করে দিন, আপনি ছাড়া আর কারো কাছেই মুখাপেক্ষী হতে চাই না। আমায় ঋণমুক্ত করে দিন রব্বুল আলামিন। আমার তো আর চাওয়ার জায়গা নেই, আমি গুনাহগার বান্দা। আমি আর কার কাছে যাবো?"
আরও কত কি বলেছিলাম ইয়ত্তা নেই।
তিনি এমনভাবে কবুল করে নিয়েছিলেন যে সকালে উঠেই জানতে পারলাম খুব বড় একটা সুযোগ পেয়েছেন। যা অর্থের দরকার ছিল তার চারগুন পেলাম।
এরপর শুরু হলো দোআ কবুলের অন্যতম এক অধ্যায়!! একটা একটা দিন যায় উপার্জন শুধু বাড়তেই থাকে আলহামদুলিল্লাহ্। ঋণগুলো এক এক করে শোধ হতে থাকে। শেষ পর্যন্ত এমন হতে থাকল যে আগে মাসিক যা আয় ছিলো তা প্রতিদিনে রূপ নিলো।
আলহা'মদুলিল্লাহি রব্বিল আ'লামিন।
নিজেদের চেম্বার, ফার্মেসি, আলহামদুলিল্লাহ্ ক্লিনিকও হাতে চলে এসেছে, সেই সাথে আমার নিজস্ব ব্যবসাতেও অনেক বারাকাহ্ পাচ্ছি (নিজের যাকাতও নিজে আদায় করেছি আলহামদুলিল্লাহ্)।
أعُوذُ بِكَلِماَتِ اللهِ التاَّمَّةِ مِنْ كُلِّ شَيْطاَنٍ وَهاَمَّةٍ وَمِنْ كُلِّ عَيْنٍ لاَمَّةٍ
[এটা বদনজর থেকে বাঁচতে লিখা]
কখনো কোনো দোআ করে হতাশ হইনি। হয় সেটা কবুল হয়েছে, নয়ত তারও অধিক উত্তম কিছু পেয়েছি।
কিছু আমল শুধু রবের জন্যই, যা কাউকে বলা যায় না৷
শুধু বলবো দোআ কবুলের একটা সময়ও বাদ দিবেন না। তাহাজ্জুদে, গভীর রাতে, সিজদায়, বৃষ্টির সময়, আযান ও ইকামাতের মধ্যবর্তী সময়ে, প্রতিটি মোনাজাতে, শুয়ে-বসে-হাঁটতে-ফিরতে কোনো সময়ই বাদ না থাকুক৷ আর রিযিকের জন্য মাগরিবের পর সূরা ওয়াকিয়াহ্ পড়ুন। বেশি বেশি ইস্তেগফার করুন ও দুরুদ পড়ুন। (সংগৃহীত)

Leave a Comment