দোয়া কবুলের গল্প..... 


বাসা থেকে যখন বিয়ের জন্য চাপ দিচ্ছিল। চিকন ছিলাম বলে পরিবারের লোকজন ইশারাতে অনেক কথা শুনাতো। বারবার মনে হতো মরে যাই। যে পরিবারে জন্ম নিলাম আর সেই পরিবারের লোকজনই কথা শুনায়। যারা কথা শুনায় তারা যদি আমার থেকে অনেক ভালো হতো মনকে বুঝাতে পারতাম।


কিন্তু যতবার মরে যাওয়ার কথা ভাবতাম ততবার আল্লাহ আমাকে নামাজের দিকে আগ্রহী করে তুলেছে। ফেসবুকে আসলে শুধু দেখতাম ধৈর্য ধরলে অনেক ভালো কিছু পাওয়া যায়। আল্লাহর কাছে কিছু চাইলে আল্লাহ কখনো বান্দাকে নিরাশ করেন না। এরকম বিভিন্ন ইসলামিক পোস্ট চোখে পড়তো। তখন মনে হতো এগুলো যেনো আমার জন্যই।


তারপর আল্লাহর উপর ভরসা করে রইলাম। আল্লাহ আমার জন্য যা ভালো মনে করেন সেটাই হবে।

তারপর লকডাউন হলো। বাড়ি চলে আসলাম। আম্মু অনেক চাপ দিতো বিয়ের জন্য। সত্যি কথা কি মেয়ে বড় হলে সব মায়েরা এমন করে। আরও চিকন ছিলাম বলে মানুষের কথায় আম্মু অনেক বেশি চিন্তা করতো। আবার আমার কথাও ভাবতো। আমি নিজেও রাজি ছিলাম না বিয়ে করতে। দুবছরের সময় চেয়েছিলাম। নিজের পায়ে দাড়িয়ে বিয়ে করার ইচ্ছে ছিলো।


তারপর বিভিন্ন ইসলামিক পোস্ট দেখে দু'আ কবুলের মাধ্যমগুলো জেনে নিলাম। আমলও শুরু করলাম। তারপর কেন যেনো মনে হতো দু'আ কবুল হচ্ছে না।আল্লাহকে খুশি করতে পারছি না। 

দু'আ কবুল না হওয়ার কারণ খোঁজা শুরু করলাম।

আলহামদুলিল্লা পেয়েও গিয়েছিলাম- যিনা করা, মিথ্যা কথা বলা, শিরক করা।

যিনার কথা বললাম এজন্য- আমরা ছেলে দেখলে বলি ক্রাশ খাই, বিভিন্ন মিডিয়ার লোক দেখে ক্রাশ খাই যেটা যিনার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত। আর মিথ্যা কথা সবাই বলি সেটা ছোট হোক কিংবা বড় হোক (আমি নিজের সম্পর্কে মিথ্যা বেশি বলতাম যেমন কোনো কাজ পারলে বলতাম পারি না, কখনো খাবার না খেয়ে থাকলেও আম্মাকে বলতাম খেয়েছি)।

আর শিরক হলো তাবিজ ব্যবহার করতাম। আরও অনেক কিছু আছে যা নিজের অজান্তে করতাম। 


যাহোক সব মিলিয়ে রমজান চলে আসলো। আর রমজান মাস তো গুনাহ মাফ হওয়ার মাস। 

তাই আর দেরি না করে সুযোগ কাজে লাগিয়ে দিলাম। আযানের সময় দোয়া, তাহাজ্জুদ নামাজ, সেজদাশ দোয়া, আসরের নামজের পর দোয়া করতাম। 

আল্লাহকে কখনো বলতাম না আমার এটাই লাগবে। সবসময় বলতাম আমার অতীতের গুনাহ মাফ করে দাও। আমার জন্য যেটা উত্তম মনে হয় তুমি সেটাই করো, যদি বিয়েটা উত্তম মনে হয় তাহলে বিয়ে কবুল করে নাও আর যদি মৃত্যুটা উত্তম মনে করো তাহলে ইমানের সহিত মৃত্যু দিও।


বিশ্বাস করুন- সেদিন যদি ধৈর্য না ধরতাম, আল্লাহর উপর বিশ্বাস না রাখতাম তাহলে এতো ভালো কিছু পেতাম না 

রোজার ঈদের ১৫ দিন পর হঠাৎ বিয়ে হয়ে যায় আমার। আলহামদুলিল্লাহ্ আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করে শেষ করতে পারবো না। এতো ভালো একজন জীবনসঙ্গী পেয়েছি।


আল্লাহর উপড় ভরসা রাখুন, আল্লাহ কখনো তার বান্দাকে নিরাশ করেন না। আলহামদুলিল্লাহ্


✍️এক বোনের কমেন্ট থেকে নেওয়া!

Leave a Comment