দুআ_কবুলের একটি আমল আছে যে আমলটি করলে আপনার দোয়া দ্রুত কবুল হবে ইংশা আল্লাহ।

সেই আমলটি সম্পর্কে আজকে আমি আপনাদের অবহিত করবো। তার আগে নিচের দোয়া কবুলের গল্প গুলো শুনুন তাহলে উপলব্ধি করতে পারবেন আমলটি কতটা কার্যকরী।


আমার দুইজন ফ্রেন্ড(মেয়ে) ছিলো ডিভোর্সী, তাদের জীবনটা খুব খারাপ যাচ্ছিলো। ফেইসবুক ভর্তি কষ্টের পোষ্ট। কল দিলে দীর্ঘনিশ্বাস, সামাজিক,পারিবারিক ভাবে মানসিক টর্চার সব কিছু মিলিয়ে তারা দুজনেই ডিপ্রেশনের চরম মাত্রায়। দুজনকেই আমি ভালোবাসতাম, ভালোবাসার জায়গা থেকে যখন যখন নিজের জন্য দোয়া করতাম তখন তখন ওদের জন্যও দোয়া করতাম যেনো আল্লাহ ওদের মনের মত জীবনসঙ্গী দান করে, সকল কষ্টের অবসান ঘটায়। তাহাজ্জুদ নামাজে, ফরজ নামাজের পর, সিজদায় ওদের জন্য দোয়া করেছিলাম।

অতঃপর দীর্ঘদিন পর প্রায় দুই বছর পর আলহামদুলিল্লাহ কিছুদিন হচ্ছে ওদের দুজনেই এখন খুব ভালো আছে। মনের মত জীবনসঙ্গী পেয়েছে, এবং নিজ নিজ সংসারে তারা সুখী।


আমি যেহেতু একজন মেয়ে, অন্য মেয়ের কষ্ট দেখলে খুব কষ্ট লাগে তাই কাউকে সমস্যায় পড়তে দেখলেই আমি দোয়া করতে থাকি তার জন্য। আমার এক কাজিনের দাম্পত্য কলহ চলছিলো ডিভোর্স হয়ে যাওয়ার অবস্থা। দুজনে আলাদা থাকতো। শাশুড়ির সাথে মা'রামা'রি শ্বশুর দেয় গা'লাগা'লি স্বামীর অসুস্থতা ইত্যাদি নানান সমস্যায় জর্জরিত। ওদের জন্য দোয়া করেছিলাম আলহামদুলিল্লাহ এখন তাদের একটা সন্তান হয়েছে এবং সন্তান হওয়ার পর থেকে তাদের বৈবাহিক জীবনের সমস্যা কাটিয়ে শান্তিতেই আছে।


আমার আরেক পরিচিত একটা মেয়ে পরকীয়ায় আসক্ত ছিলো। পরকীয়া বলতে অন্য ছেলের সাথে ফোনে কথা, চ্যাট করতো, ওর স্বামী প্রবাসী স্বামীর সাথে কাজি ঝগড়া করতো। ওর স্বামীও প্রচন্ড রাগী তাই দুজনে সারাক্ষণ পরিবারে অশান্তি লাগিয়ে রাখতো। ঐ মেয়েটার হেদায়েতের জন্য দোয়া করেছিলাম+ওদের দাম্পত্য জীবনের কলহ যেনো আল্লাহ মিটিয়ে দেয় সেই জন্য দোয়া করেছিলাম।

আলহামদুলিল্লাহ ওরা এখন ভালো আছে, শান্ত আছে, দুজনের দাম্পত্য কলহ আর আগের মত নেই। টুকটাক রাগ অভিমান সবার ই হয় বাট আগের মত অশান্তি আর হয়না।


এবার আসি মূল পয়েন্টে,,, দাম্পত্য জীবনে রাগ অভিমান টুকটাক ঝগড়া সবার ই হয়, আমার স্বামীর সাথেও আমার হতো তবে সেটা জটিল কিছু ছিলোনা। তবে এই সামান্য টুকুও যেনো আল্লাহ মিটিয়ে দেয় তার জন্য আমি দোয়া করতাম, আর তার পাশাপাশি অন্য সবার জন্য দোয়া করতাম। যখন যখন আমার জন্য দোয়া করতাম তখন তখন অর্থ্যাৎ তাহাজ্জুদে, সিজদায়, ফরজ নামাজের পর দোয়া করতাম অন্যদের জন্যও। 


কেনোনা রাসূল সাঃ বলেছেন কোনো ব্যাক্তি যখন অন্যর জন্য কোনো দোয়া করে ফিরিশতারা তখন বলতে থাকে আল্লাহ আগে দোয়াকারী ব্যাক্তিকে উক্ত জিনিসটি দান করো।

(আবু দাঊদঃ১৫৩৪)

 

আলহামদুলিল্লাহ অন্যদের দাম্পত্য জীবনের কলহ গুলোর পাশাপাশি আল্লাহ আমার দাম্পত্য জীবনের কলহ গুলোও মিটিয়ে দিয়েছেন। এখন আমরা দুজনও শান্ত থাকি সব সময়।  

মাশাআল্লাহ লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ।


অর্থ্যাৎ এটিই সেই আমল যা আপনার দোয়া গুলো দ্রুত কবুল করতে সাহায্য করবে ইনশা আল্লাহ।এজন্য নিজের জন্য দোয়া করার পাশাপাশি অন্যর জন্যও দোয়া করুন বেশি বেশি এটা একটি আমল যা আপনার দোয়া দ্রুত কবুল করবে ইনশা আল্লাহ। দোয়া করতেই থাকুন, দোয়ার সাথে আঠার মত লেগে থাকুন, হতাশ হবেন না। মনে রাখবেন দোয়াও একটি ঈবাদাত, যতক্ষণ দোয়া করছেন ততোক্ষণ আল্লাহর ঈবাদাত ই করছেন।তাওয়াক্কুল আর ইয়াকিন বাড়ান যে অবশ্যই আমার দোয়া কবুল হবেই হবেই। আমার রব আমায় খালি হাতে ফিরাবেন না। ইনশাআল্লাহ।

সংগৃহীত

1 thoughts on "দোয়া কবুলের গল্প -৫"