দু'আ কবুলের গল্প 🧡💛


আমি ২০১৫ সাল থেকে বিয়ের জন্য চেষ্টা করছিলাম। 

আল্লাহর কাছে বলতাম, দুয়া করতাম। 

কিন্তু দুয়া কবুল হচ্ছিল না।

২০১৯ সালের দিকে এসে তো খুবই সিরিয়াস হয়ে গেছি বিয়ের জন্য। মানসিক অস্থিরতা, হতাশা, ডিপ্রেশন সব কিছু মিলিয়ে জীবনটা বিষিয়ে উঠেছিল।


আল্লাহর কাছে কাকুতি মিনতি করে বলতে থাকলাম। বিয়ের জন্য কত রাকাত নফল নামাজ যে পড়েছি তার কোনো হিসেব নাই।

তারপরও দুয়া কবুল হচ্ছিল না।


দুয়া কবুলের সময়গুলোতে দুয়া করতে শুরু করলাম। 

ইফতারির আগে, আজান ও ইকামাতের মধ্যবর্তী সময়, বৃষ্টির সময়, শুক্রবার আসরের পর থেকে মাগরিবের আগ পর্যন্ত সময়টা নিজের জন্য রাখতাম কারন তখন দুয়া কবুল হয়, তাহাজ্জুদ সালাতে দুয়া করতাম, রোজা রাখতাম আর বিয়ের জন্য যেসব আমল আছে সেগুলো করতাম। পাশাপাশি বদনজর ও বিয়ে বন্ধ করে রাখার যাদুর (কুফুরি) জন্য রুকইয়াও করতাম।


তারপরও কোনো কিছুতেই কাজ হচ্ছিল না, দিন দিন মানসিক অস্থিরতা আর হতাশা বাড়তেছিল।

কিন্তু আমি নিরাশ হয়নি। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ'লার উপর আমার পূর্ণ বিশ্বাস ছিল নিশ্চয়ই আল্লাহ আমার জন্য ভালো কিছুই রেখেছেন ইনশাআল্লাহ্। 


পবিত্র কুরআনের মোটিবেশনাল আয়াত গুলি পড়ে শান্তি পেতাম, যেমন সুরা আদ দুহার ৫ নং আয়াত 

"নিশ্চয়ই আল্লাহ আপনাকে এমন কিছু দিবেন যে আপনি খুশি হয়ে যাবেন"।


"আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন" (এটা কোন সুরার কত নং আয়াত আমার সঠিক মনে নেই)  

আয়াত গুলি পড়ে মনোবল ফিরে পেতাম।


একে তো বিয়ে হচ্ছিল না। এর জন্য অস্থিরতা আবার আমার উপর বদনজরও ছিল সব মিলিয়ে আমার প্রায় মরণাপন্ন অবস্থা। আমার স্বাস্থ্য, চেহারা দিন দিন খারাপ হচ্ছিল, গায়ের রং কালচে হয়ে যাচ্ছিল।


এই সময়টাতে আমি আমার রিলেটিভিস এবং পরিচিত কারো সামনে যেতাম না, কারণ আমাকে দেখলে সবাই বলত মেয়ের এ কি অবস্থা!! যে মেয়েকে দেখলে চোখ জুড়াতো এই মেয়ের এ কেমন অবস্থা! 


আমি আল্লাহর সাথে কানেক্টিভিটি আরো বাড়িয়ে দিলাম। আল্লাহর ইবাদত করা ছাড়া দুনিয়ার আর কোনো কিছুতেই শান্তি পেতাম না।


আলহামদুলিল্লাহ ২০২২ সালে দীর্ঘ আট বছর পর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ'লা আমার দুয়া কবুল করেছেন।


হাজতের নামাজ পড়ে সিজদায় গিয়ে ৪০ বার সুরা ফুরকানের ৭৪ নং আয়াত পড়েছি। আলহামদুলিল্লাহ এই আমলটা খুবই ইফেক্টিভ।


আল্লাহকে বলতাম, "আল্লাহ আমি তো আপনার সন্তুষ্টির জন্য বিয়ে করতে চাই, চরিত্র হেফাজতের জন্য বিয়ে করতে চাই, আমাকে সাহায্য করুন প্লিজ।"


আশেপাশের কত মানুষ হারাম সম্পর্ক নিয়ে ব্যস্ত, আমি তখন জায়নামাযে বসে হালাল সম্পর্কের জন্য প্রার্থনা করতাম।


আলহামদুলিল্লাহ আমি একজন ভালো মানুষ পেয়েছি আল্লাহর দরবারে অনেক অনেক শুকরিয়া। 

আমাদের জন্য দুয়া করবেন।


নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বোন ❤️

1 thoughts on "দোয়া কবুলের গল্প -১০"